• বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৭, ৯ ভাদ্র ১৪২৪
  • ||
  • আর্কাইভ

আমরা কি সবাই এক হবো না, এই অমানবিক ব্যবসার বিরুদ্ধে?

প্রকাশ:  ১২ আগস্ট ২০১৭, ২৩:১২
সুবর্ণ গোস্বামী
প্রিন্ট

কর্পোরেট হাসপাতালে কর্মরতা নার্স মারা গেলেন বিনা চিকিৎসায়। উমা ভিনরাজ্য থেকে এরাজ্যে এসে নার্স হিসেবে পরিষেবা দিয়েছেন আমরির বহু রোগীকে। এরকম শতাধিক নার্স, গ্রুপ ডি স্টাফ, টেকনিশিয়ান, সুইপার এবং চিকিৎসক মিলে আমরি হাসপাতালের মালিকদের অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার লাভ তুলে দেন প্রতি মাসে। বদলে তাঁরা পান যৎসামান্য বেতন। উমা অসুস্থ হয়েও ছুটি পাননি, নাইট শিফটে অন্-ডিউটি অবস্থায় তিনি তীব্র মাথাব্যথায় ছটফট করলে চিকিৎসক জরুরী ভিত্তিতে সি টি স্ক্যান করতে বলেন। তিনি মাসিক একুশ হাজার টাকার কম বেতন পান, তাই তাঁর আমরি হাসপাতালে সি টি স্ক্যান করার অধিকার নেই, ই এস আই হাসপাতালে যেতে বলা হয়। পরের দিন সকালে উমা মারা যান। 

কর্পোরেট মালিক যাদের ঘাম-রক্তের বিনিময়ে মুনাফা লোটে, তাদের নিজেদের অধিকার নেই পরিষেবা পাবার ! যে কিশোর হোটেল-রেস্তোঁরায় থালা ধোয়, তার খিদে পেলে দু'মুঠো ভাত পাবে না ! অথচ ঐ হাসপাতালেই কেবিন-ভাড়া পাঁচতারা হোটেলের ঘর-ভাড়ার চেয়েও অনেক বেশী। এভাবেই শ্রমিক শোষিত হয়, মালিকের মুনাফার পাহাড় গড়ে ওঠে। দেশের মোট অভ্যন্তরীন উৎপাদনের শতকরা 58 ভাগ কুক্ষিগত হয় মোট জনসংখ্যার এক শতাংশের হাতে, আম্বানী-আদানীদের হাতে। বাকী 99 শতাংশকে বলা হয় দেশের স্বার্থে, চীন-পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্বার্থে গ্যাসের ভর্তুকি ছেড়ে দিতে। উমাদের ব্যাঙ্কে রাখা ব্যাঙের আধুলির সুদ কমিয়ে দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ মকুব করা হয় বিজয় মাল্য আর আদানীদের।

এই 99 শতাংশ ঐক্যবদ্ধ হলে যেহেতু ঐ এক শতাংশের বিপদ, তাই তাদের প্রথমে ভাগ করা হয় হিন্দু আর মুসলমানে। হিন্দুরা তবুও সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকে, তাই তাদের ভাগ করা হয় ব্রাহ্মণ আর দলিতে। দলিত তবুও সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাই তাদের ভাগ করা হয় তপশিলী জাতি আর উপজাতিতে। ভাগ করা থামেই না। 

আর সব ভাগাভাগি ভুলে 'দুনিয়ার মজদুর (99 শতাংশ) এক হও' আওয়াজ তুললে তাদের সেকু/মাকু/কমি বলে গালি দেওয়া হয়। উমা মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই - সে বলিপ্রদত্ত হইয়াছে, তাহাকে বলি করিয়াছে আন্তর্জাতিক ফিন্যান্স ক্যাপিটালের সীমাহীন মুনাফার লালসা।


DrSubarna Goswami ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেওয়া