• বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৭, ৯ ভাদ্র ১৪২৪
  • ||
  • আর্কাইভ

ডাকসু নির্বাচনের দাবি উঠেছে

প্রকাশ:  ১৩ আগস্ট ২০১৭, ০৩:১১ | আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ০৪:০৪
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব গড়ে উঠেছে ছাত্র রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) থেকে। কিন্তু দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে কার্যকর নেই দেশের দ্বিতীয় পার্লামেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত এ রাজনৈতিক সূতিকাগার। ফলে গড়ে উঠছে না মেধাবী ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে। কিছুদিন পরপর ডাকসু নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। আবার সে আলোচনা থেমে যায়। বেশ কিছুদিন ধরে আবার নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে। 

জানা যায়, ঢাবির সর্বশেষ সমাবর্তনে খোদ রাষ্ট্রপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ ডাকসু নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। এ সময় ডাকসুর দাবিতে কয়েকটি মিছিল-মিটিং করে বাম ছাত্র সংগঠনগুলো। কিন্তু এরপর আবার হারিয়ে যায় ডাকসু নির্বাচন ইস্যু। মূলত ডাকসু ইস্যুতে যে আন্দোলন হয়েছে সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল না। এ ছাড়া এই ইস্যুতে এক নয় ছাত্র সংগঠনগুলো। ফলে ডাকসুর দাবিতে জোরদার আন্দোলন গড়ে ওঠেনি। যে কারণে বরাবরের মতোই ডাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে উদাসীন প্রশাসন। সম্প্রতি সিনেটের বিশেষ সভায় ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়া উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারও ডাকসু নির্বাচনের দাবি উঠেছে। 

গত ২৯ জুলাই ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে কিছু ছাত্র ডাকসুর দাবিতে আন্দোলনে নামেন। সেদিন ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সালমান সিদ্দিকী, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রগতি বর্মণ তমার নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে মিছিল বের করেন ২৫-৩০ জন আন্দোলনকারী। মিছিল শেষে সিনেট ভবনের প্রবেশপথে তাদের সঙ্গে শিক্ষকদের হাতাহাতি হয়। এ সময় এক শিক্ষকের হাতের আঙ্গুল ভেঙে যায় এবং শিক্ষকদের সঙ্গে হাতাহাতিতে পাঁচ আন্দোলনকারী আহত হন। এরপর এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরদিন এই ঘটনায় জড়িত শিক্ষকদের বিচার চেয়ে এবং ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। 

পরে গত ৯ আগস্ট ডাকসুর দাবিতে ক্যাম্পাসে ব্যতিক্রমধর্মী র‌্যালি বের করেন আন্দোলনকারীরা। তারা সাইকেল নিয়ে অংশ নেন র‌্যালিতে। এটি মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরদিন ১০ আগস্ট সকালে মধুর ক্যান্টিনে এ দাবিতে ‘মুক্ত আলোচনার’ আয়োজন করা হয়। আলোচনায় যোগ দিতে গিয়ে সেদিন ছাত্রলীগের ধাওয়ার সম্মুখীন হয় ছাত্রদল। আলোচনায় যোগ দেয়নি ছাত্রলীগও। ফলে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এই মুক্ত আলোচনা। সেদিন ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রদল অছাত্রদের নিয়ে ডাকসুর দাবি জানাতে পারে না। তারা ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে এসেছিল। আমরাও চাই ডাকসু কার্যকর হোক। প্রশাসন আমন্ত্রণ জানালে যে কোনো আলোচনায় আমরা অংশগ্রহণ করব। 

জানা যায়, স্বৈরশাসনামলে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ‘৯০-এর পর গণতান্ত্রিক সরকারের শাসনামলের দীর্ঘ ২৭ বছরে হয়নি এ নির্বাচন। সংশ্লিষ্ট অনেকে মনে করেন, সরকারের কর্তৃত্ব হারানোর ভয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে সচল হচ্ছে না ডাকসু। কয়েক বছর আগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন করেছিল ‘শিক্ষার্থী অধিকার মঞ্চ’। শিক্ষার্থী অধিকার মঞ্চের মুখপাত্র নূর বাহাদুর বলেন, সব শিক্ষার্থীই ডাকসু নির্বাচন চান। কিন্তু এটি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে ও আন্দোলন করতে তারা ভয় পান। কারণ তাদের আশঙ্কা, আন্দোলন করলে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন তাদের হল থেকে বের করে দেবে এবং অনেক সময় তাদের ক্যাম্পাসে চলাফেরা করাটাও অসম্ভব হবে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধি থাকার নিয়ম থাকলেও ডাকসু না থাকায় তা শূন্য রয়েছে। ফলে ঢাবির শিক্ষা কার্যক্রমে ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব নেই। তাদের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই। প্রশাসন ছাত্রদের মতামত ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে। 

ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি শাখার সভাপতি তুহিন কান্তি দাস বলেন, ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মুক্ত মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ডাকসু প্রয়োজন। ডাকসু না থাকায় বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে নীতিনির্ধারণ করে সেখানে ছাত্রদের মতামত নেওয়া হয় না। যদি ডাকসু কার্যকর থাকত তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে আরও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারত। 

ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ডাকসু নির্বাচনের প্রতিবন্ধকতা কী আমরা সবাই জানি। মূলত ছাত্রদের জন্য ডাকসু। তাই ডাকসু কার্যকর করতে ছাত্র সংগঠনগুলোর ঐকমত্য দরকার। এ ছাড়া ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে নিয়মিত ছাত্ররা না থাকায় ডাকসু নির্বাচন দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় বলে মন্তব্য করেন উপাচার্য।