• বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৭, ৯ ভাদ্র ১৪২৪
  • ||
  • আর্কাইভ

বিএনপি-আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের হট্টগোল

প্রকাশ:  ১০ আগস্ট ২০১৭, ১৭:১০
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টস্থ বিএনপি-আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে 'ষোড়শ সংশোধনী রায় নিয়ে আইন কমিশন চেয়ারম্যান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকসহ বিভিন্ন মহলের বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য সম্পর্কে' আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেরর সময় এই ঘটনা ঘটে।

এসময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদিন (বিএনপিপন্থী আইনজীবী) সাবেক বিচারপতি খায়রুল হকের বক্তব্যের সমালোচনা করে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

এই সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন। 

সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদিন বলেন, ‘আজ আমি দলীয় বক্তব্য দিতে আসিনি, আইনজীবী সমিতির সকলের পক্ষে বক্তব্য দিতে এসেছি।’ 
কিন্তু লিখিত বক্তব্যে জয়নুল আবেদিন সাবেক বিচারপতি খায়রুল হকের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানান উপস্থিত আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা। 

সমিতির সভাপতির বক্তব্য শেষ হলে আওয়ামীপন্থী আইনজীবী ও এই সমিতির সহ-সভাপতি ওয়াজি উল্লাহ বক্তব্য দিতে চাইলে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সংবাদ সম্মেলনের ব্যানার খুলে নিয়ে যান। এরপর দুপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। 

তবে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মিলনায়তক কক্ষ ত্যাগ করলে সমিতির সহ-সভাপতি ওয়াজি উল্লাহ সংক্ষিপ্ত আকারে সংবাদ সম্মেলন করেন। 
তিনি বলেন, সমিতির সভাপতি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা একান্তই তার নিজের বক্তব্য। এই বক্তব্য আইনজীবী সমিতির বক্তব্য নয়।

এর আগে সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদিন তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায়কে পূর্ব ধারণা প্রসূত বলেছেন সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক। তাহলে আমাদেরকে বলতে হয় তিনি যে, অতীতে জাজমেন্ট দিয়েছেন বিশেষ করে ১৩তম সংশোধনীর তাও কি ওই জাজমেন্টের পূর্ব ধারণাপ্রসূত?

তিনি আরো বলেন, আজকে বলতে হচ্ছে, খায়রুল হক ১৩তম সংশোধনীর জাজমেন্টের মাধ্যমে তত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে যে রায় দিয়েছেন ওই রায়ের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ভোটের অধিকার হারিয়েছে। গণতন্ত্র ও মৌলিক মূল্যবোধের কবর রচনা করেছেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় আইন  কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে সংবাদ সম্মলনে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরেন।

বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি কি প্রধান শিক্ষক আর অন্য বিচারপতিরা কি ছাত্র যে, সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তাকে (প্রধান বিচারপতি) অন্য বিচারপতিদেরকে পরিচালনা করতে হবে? সংবিধানের ৯৪(৪) অনুচ্ছেদ অনুসারে তো বিচারপতিরা সবাই স্বাধীন।’

তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা ভুল করলে সুপ্রিম কোর্ট দেখে সংশোধন করবেন। সেখানে সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতিরা) ভুল করলে আমরা যাব কোথায়? এই রায়ের মাধ্যমে জুজুর ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি এই রায়ে সংসদ সদস্যদের হেয় করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন খায়রুল হক।