• বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৭, ৯ ভাদ্র ১৪২৪
  • ||
  • আর্কাইভ

বিবাহ বিচ্ছেদের পর সন্তান কার কাছে থাকবে

প্রকাশ:  ০৮ আগস্ট ২০১৭, ০৩:২৭
ফাহরিয়া ফেরদৌস
প্রিন্ট

রিতুর (ছদ্ম নাম) বিয়ে হয়েছে ১৬ বছর আগে। রিতু একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে উচ্চপদে চাকরি করেন এবং তাঁর একটি ছেলে ও একটি মেয়ে আছে। ছেলের বয়স ৭ বছর এবং মেয়েটি  ১২ বছরের। প্রায় তিন বছর হলো রিতুর সঙ্গে তাঁর স্বামীর বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। তাঁর বাচ্চার বাবা পুনরায় বিয়ে করেছেন; কিন্তু রিতু আর বিয়ে করেননি। এতোদিন পর্যন্ত বাচ্চার বাবা তাঁর সন্তানদের কোনো খোঁজ নেননি। এখন হঠাত্ করে বাচ্চার বাবা তাঁর ছেলেসন্তানটিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন।

বাচ্চার বাবা আরো বলেছেন যে, বাচ্চার মা যদি আপসে ছেলেকে না  দেন তবে তিনি আদালতে যাবেন। রিতু আরো জানান যে, বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনি তাঁর দেনমোহরও নেননি। প্রশ্ন হলো, যেহেতু বাংলাদেশের আইনে বলা আছে যে ছেলেসন্তান ৭ বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের কাছে থাকবে তাই  যে বাবা এতোদিন পর্যন্ত সন্তানদের খোঁজ রাখেননি, কোনো খরচ দেননি সেই বাবা কি কেবল এই আইনের কারণেই এখন ছেলেকে নিয়ে যেতে পারবেন?    

বাংলাদেশের আইনে ছেলেসন্তানের বেলায় ৭ বছর পর্যন্ত মায়ের কাছে থাকার কথা বলা মানে এই নয় যে ৭ বছরের পর মা আর তাঁর ছেলেসন্তানের কাস্টডি পাবেন না। তালাক যেভাবেই হোক না কেন, মা তার এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না। বিজ্ঞ আদালতের বিচারকগণ সবসময়ই বাচ্চারা কোথায় ভালো থাকবে তা  দেখেন। আইন অনুযায়ী সন্তান মায়ের কাছে থাকলেও বাবাই তাঁদের ভরণ-পোষণ দেবেন। এমনকী মায়ের আর্থিক অবস্থা যদি খারাপ থাকে সে ক্ষেত্রেও সন্তান নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত, এমনকী বিজ্ঞ আদালত যদি মনে করেন  যে সন্তানরা মায়ের কাছেই ভালো থাকবে তবে নির্ধারিত বয়স পার হবার পরও সন্তানরা মায়ের কাছে থাকবে। 

মা যদি পুনরায় বিয়ে করেন তারপরও যদি বিজ্ঞ  আদালত পর্যালোচনা করে দেখেন যে সন্তানদের মায়ের কাছে থাকাই মঙ্গল তবে সন্তান মায়ের কাছেই থাকবে। রিতুর ঘটনায় বাচ্চার বাবা তাঁর সন্তানদের ভরণ-পোষণ  দেননি, এতোদিন খোঁজখবরও নেননি, এখন হঠাত্ করে শুধু ছেলেসন্তানটিকে নিয়ে যেতে চাইছেন, তাই পুরো বিষয়টিই বিজ্ঞ আদালত গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করবেন। রিতুর দেনমোহর নেওয়া বা না নেওয়া কোনোভাবেই সন্তানের কাস্টডির বিষয়টি প্রভাবিত করে না। দেনমোহরের বিষয়টি স্বামী-স্ত্রীর বিষয়, এটির সঙ্গে বাচ্চাদের বিষয়টি সম্পর্কযুক্ত নয়। 

লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

সূত্র: ইত্তেফাক