• বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৭, ৯ ভাদ্র ১৪২৪
  • ||
  • আর্কাইভ

নামি কোম্পানির জুতা ফুটপাতে আসে যেভাবে

প্রকাশ:  ১১ আগস্ট ২০১৭, ১৭:৪৫ | আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৭, ১৭:৫১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

পায়ের তলায় থাকলেও জুতা মানুষের জীবনের অপরিহার্য অংশ। কোথাও কোথাও এই জুতাই ব্যক্তির শরীর নয় শুধু, ব্যক্তিত্বকেও বহন করে। তাই, ব্যক্তিত্ব বজায় রাখতে নামিদামি কোম্পানির জুতাতে পা গলাবেন সামর্থ্যবানরা এটাই স্বাভাবিক।

সারা দুনিয়ায় তাই জুতোর রয়েছে অন্যরকম কদর। রয়েছে বাড়তি চাহিদা। চাহিদা ও সময় উপযোগী চাহিদা পূরণে প্রতিনিয়ত আসছে নতুন ডিজাইন। তবে, চাহিদার সাথে সামর্থ্য সম্পর্কযুক্ত। ইচ্ছা থাকলেও অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়ে ওঠে না নামিদামি প্রতিষ্ঠানের জুতা কেনা।

পকেটে পয়সা না থাকলেও পায়ে জুতা থাকা লাগে। তাই স্বল্প আয়ের মানুষের জন্যও আছে স্বস্তার জুতা। সব সময় দোকানে না থেকে সেটা কখনো কখনো নেমে আসে ফুটপাতে। তাই বলে ফুটপাতের সব জুতোর দোকানের কথা ভেবে নাক সিটকাবেন, তা হবে না।

তেমনি কয়েকটি জুতোর দোকান দেখা গেল রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা শপিং মলের বিপরীত দিকের ফুটপাতে। বাহারি ডিজাইনের ছোট বড় সকলের জন্য জুতার পসরা নিয়ে বসেছে দোকানিরা। এমনকি নামকরা কিছু ব্র্যান্ডের খাঁটি চামড়ার জুতোও চোখে পড়ল এখানে। ৫০০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যেই মিলছে ঝকঝকে চক চকে চামড়ার জুতা। মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত ক্রেতারা চাইলেই এখান থেকে কিনতে পারছেন। অথচ এই একই জুতা বসুন্ধরার বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকায়।

মজার ব্যাপার হলো এখানকার দোকানে বিক্রি হওয়া জুতার সাথে বসুন্ধরা শপিং মলে বিক্রি হওয়া জুতার মানের পার্থক্য খুবই সামান্য। দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি কোম্পানির জুতা বাংলাদেশেই বানায়। তারপর সেগুলোর গুণগত মান পরীক্ষা করে বাক্স বেঁধে পাঠিয়ে দেয়া হয় বিদেশি ক্রেতাদের জন্য। কিন্তু কিছু জুতো ‘ম্যানুফ্যাকচারিং ডিফেক্ট’ অর্থাৎ তৈরি করার সময় সামান্য খুঁত থেকে যাওয়ায় যাচাই বাছাই শেষে বাদ পড়ে যায়।

সেই বাদ পড়া জুতো গুলোই খুব স্বস্তায় কারখানা থেকে কিনে আনেন ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব খুঁত এতোটাই সুক্ষ্ম হয় যে রীতিমতো বিশেষ প্রশিক্ষণ না থাকলে সেসব ঘুর্ণাক্ষরেও টের পাওয়া যায় না। আর ঠিক এ জন্যই দেখতে প্রায় একই এবং গুণগত মানের খুব সামান্য পার্থ্যক্য নিয়ে এসব জুতা ফুটপাতে বিক্রি হয়। কিন্তু স্রেফ ফুটপাত বলেই দামের পার্থক্য ঢাকার বনেদী শপিং মলের চেয়ে প্রায় চার থেকে ছয় গুণ কম বেশি হয়।

তাই যারা জানেন এবং স্বস্তায় জুতো কিনতে চান, তারা প্রথমেই মার্কেটের দোকানে না গিয়ে ফুটপাতে ঢু মারেন। এর সাথে খানিক আলাপকালে এমনটি জানালেন এখানকার নিয়মিত ক্রেতা মিজানুর রহমান। তিনি জানান, এখান থেকে প্রায়ই ভালো মানের জুতো খুবই স্বস্তায় কিনে নিয়ে গেছেন। শুধু একটু দেখে শুনে বেছে কিনতে হয়েছে, এই যা।

বেচাবিক্রি কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে ফুটপাতের জুতো ব্যবসায়ী আরিফ বলেন, শীতের সময় দিনে ৮-১০ জোড়া বেচা যায়। তাছাড়া তেমন বেচাকেনা হয় না। জায়গার জন্য আলাদা টাকা দিতে হয় না, তাই অল্প ব্যবসায় সীমিত লাভ করলেই হয়।

বর্ষায় ব্যবসা তেমন জমজমাট না হলেও, কিছু নির্দিষ্ট ক্রেতা রয়েছে তাদের যারা ভালো জুতা পেলে সারা বছরই টুকটাক কিনে নেয়। একবার যারা এখানে থেকে জুতো কিনতে শিখে গেছেন, তারা ঠিকই নিয়মিত ক্রেতায় পরিণত হয়েছেন বলে জানালেন দোকানিরা। আর সেই নিয়মিত ক্রেতার মাধ্যমেই নতুন নতুন আরো ক্রেতা পাচ্ছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।

তবে ফুটপাতের দোকান বলেই অনেক ক্রেতা হয়তো নাক সিঁটকান। আর সেজন্যই এখানকার এক জুতো বিক্রেতা বললেন, ‘মানুষ ফুটের মাল কিনতে চায় না। চিন্তা করে আসল না নকল। কিন্তু আমরা খারাপ মাল বেচি না। অরিজিনাল লেদারের সু পাবেন এইখানে, কোনো ভেজাল নাই।’