• সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৯ আশ্বিন ১৪২৪
  • ||
  • আর্কাইভ
শিরোনাম

সরব বিএনপি, নীরব পর্যবেক্ষক জামায়াত

প্রকাশ:  ২৪ আগস্ট ২০১৭, ০৪:৪৪
উৎপল দাস
প্রিন্ট

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী রায় ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রধান বিচারপতির পক্ষে সরব অবস্থান নিয়ে তাদের অন্যতম রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ নিরব পর্যবেক্ষক হয়ে বসে আছে। জামায়াতের কোনো বক্তব্য আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে এখনো আসেনি। 

সূত্র জানায়, জামায়াত মনে করে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাদের শীর্ষ নেতাদের যে ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে, সেখানে সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে প্রধান বিচারপতি  এস কে সিনহার হাত দিয়েই। এই ঘটনায় বিএনপি উল্লসিত হলেও জামায়াত মনে করছে, এখানে সন্তুষ্ট হওয়ার মতো কিছু নেই। সরকার ও বিচার বিভাগ দুটোই তাদের প্রশ্নের অভিন্ন অবস্থানে। 

তবে, জামায়াত মনে করে প্রধান বিচারপতির রায়, বক্তব্য, পর্যবেক্ষণ, সরকরের প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ যেভাবে মুখোমুখি অবস্থানে তার নেপথ্যে অন্যকিছু রয়েছে কিনা, সেটির সন্ধান করছে। একই সঙ্গে এর শেষ কোথায়, রাজনীতিতে এর প্রতিক্রিয়া কতটা গড়াতে পারে, কি পরিণতি নিয়ে আসতে পারে, সেদিকেই তাদের গভীর পর্যবেক্ষণ। 

জামায়াতে ইসলামী এ নিয়ে তাই কোনো মন্তব্যও করছে না। সরকারের দমন নীতির মুখে অনেকটা নিষিদ্ধ ঘোষিত, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক দলীয় নিবন্ধন বাতিল হওয়া দলটি আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে খুব সঙ্গোপনে দল গোছানো ও নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করেছে। 

জামায়াত মনে করে, নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধন বাতিল করলেও তাদের সাংগঠনিক শক্তি, জনসমর্থনে বিপর্যয় আসেনি। তাদের বিবেচনায় জোটগতভাবে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকলে আর গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে ভোটযুদ্ধে সুফল তুলতে পারবে। ৫০ জন তালিকাভুক্ত প্রার্থী রয়েছে। যা নিয়ে জামায়াত আগামী নির্বাচন লড়তে চায়। তাই নির্বাচনের আগে আর কোনো শক্তিক্ষয়ের পরীক্ষায়ও যেতে চায় না। সংসদে প্রতিনিধিত্ব তাদের কাছে নাম্বার ওয়ান ইস্যু। 

দলের শীর্ষ নেতারা ফাঁসিকাষ্টে ঝুললেও কঠিন পরিস্থিতির মুখে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা ও আগামী দিনে ঘুরে দাঁড়াবার পথ নিয়েই তারা চিন্তাভাবনা করছে। কোনো কারণে বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে যেতে হলেও তারা নিবন্ধিত কোনো দলের ব্যানারে তাদের প্রার্থী দেবে অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে দাঁড় করাবে। সাংগঠনিক, আর্থিক শক্তি বিনিয়োগ করবে সেইসব প্রার্থীদের পিছনে।