• সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৯ আশ্বিন ১৪২৪
  • ||
  • আর্কাইভ
শিরোনাম

বিবাহ বার্ষিকীর কার্ড লিখতে দেরি, ব্যবসায়ীকে পেটালেন বিচারক

প্রকাশ:  ২৩ আগস্ট ২০১৭, ১৪:৩১ | আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৭, ১৪:৫২
মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রিন্ট

মেহেরপুর বড় বাজারের টুটুল ফুল সেন্টারের মালিক টুটুল হোসেনকে (২৩) অন্যায়ভাবে মারধরের ও জখম করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ছানাউল্ল্যাহ। এই ঘটনায় বিচারকের বিচার দাবি করে বুধবার সকালে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে মেহেরপুর যৌথ ব্যবসায়ী সমিতি।

মঙ্গলবার দুপুরে বিবাহ বার্ষিকীর কার্ড লিখতে দেরি হবার কথা বালাই টুটুল হোসেন পুলিশের রুল ও জুতা দিয়ে পিটিয়ে জখম করে বিচারক সানাউল্লাহ মিয়া। পরে আহত টুটুল হোসেনকে মেহেরপুর জেনালের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত টুটুল হোসেন শহরের কোর্ট পাড়ার জালাল উদ্দিনের ছেলে। 

আহত টুটুল হোসেন জানান, মঙ্গলবার আনুমানিক ২টার সময় জেলা জজ আদালতের এক দপ্তরি শহরের বড়বাজার এলাকার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে একটি বিবাহ বার্ষিকীর কার্ড লিখে দিতে বলেন। হাতে বেশ কিছু কাজ থাকায় দুই ঘণ্টা দেরি হবার কথা বলেন তিনি। এসময় ওই দপ্তরি বাপ আসলে ঠিক কাজ হবে বলে সেখান থেকে চলে যান। ১ ঘণ্টা পর পুলিশের একটি দল টুটুলকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তুলে নিয়ে যান। 

কান্না জড়িতকন্ঠে তিনি আরো বলেন, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ছানাউল্ল্যাহ এসময় তাকে খাস কামরায় নিয়ে পুলিশের রুল ও নিজের পায়ের জুতা দিয়ে মেরে তাকে জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে জেনালের হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের ৩ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়।

এদিকে এ ধরণের কাণ্ড ঘটিয়ে রীতিমত এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছেন মেহেরপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্ল্যাহ। বারবার ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে নির্যাতন করার অবশেষ গত মঙ্গলবার ফুল ব্যবসায়ীকে টুটুলের ওপর নির্যাতন পর থেকে ফুঁসে উঠেছে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মহল। এঘটনার পর মুখ্য বিচারিক হাকিম (চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) বরাবর একটি অভিযোগ করেছেন টুটুলের মামা রাশেদুল ইসলাম। তার অনুলিপি প্রধান বিচারপতি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও মেহেরপুর প্রেসক্লাবে পাঠিয়েছেন তিনি। 

এদিকে ব্যবসায়ীকে নির্যাতনে প্রতিবাদে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের প্রত্যাহারসহ বিচারের দাবিতে বুধবার সকালে মেহেরপুর প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন ব্যবসায়ীরা। এসময় তারা সকাল ১০ টা থেকে ১১টা পর্যন্ত শহরের সকল দোকান পাঠ বন্ধ রাখেন।

মেহেরপুর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান দিপুর নেতৃত্বে মানববন্ধনে ম্যাজিস্ট্রেট ছানাউল্ল্যাহ’র বিচার ও  প্রত্যাহার দাবি করে বক্তব্য দেন মেহেরপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও ব্যবসায়ী রশিদ হাসান খান আলো, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম খোকন, যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান, হোটেল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল এনাম বকুল, সোনালী ব্যাংকের নির্যাতিত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, হোটেল ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম, সেলুন দোকানদার রুবেল হোসেন। মানববন্ধনে মেহেরপুর শহরের প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন। 

নির্যাতিত নাপিত রুবেল হোসেন, ব্যাংক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, হোটেল ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম মানববন্ধনে একাত্মতা ঘোষণা করে তাদের ওপর করা নির্যাতনে চিত্র তুলে ধরে ওই ম্যাজিস্ট্রেটের বিচার দাবি করেন। 

মেহেরপুর ব্যবসায়ীর সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান দিপু আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট ছানাউল্ল্যাহর প্রত্যাহারসহ বিচারের আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আমাদের দাবি না মানা হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবো। 

সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম খোকন প্রশ্ন রেখে বলেন, মান ইজ্জত নিজের কাছে। আপনি একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে এ ধরণের ন্যাক্কার জনক ঘটনা কি করে ঘটাতে পারলেন।