• সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৯ আশ্বিন ১৪২৪
  • ||
  • আর্কাইভ
শিরোনাম

অ্যাটর্নি জেনারেলকে পদত্যাগ করতে বললেন তাপস

প্রকাশ:  ২৩ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৭, ০০:০১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

প্রধান বিচারপতি যখন পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করেছেন, তখন অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁর বিরোধিতা করতে না পারায় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমেরও পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সাংসদ শেখ ফজলে নূর তাপস।

মঙ্গলবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২ তম শাহাদতবার্ষিকী ও শোক দিবসের আলোচনা সভায় শেখ ফজলে নূর তাপস এ কথা বলেন। বৃহত্তর ফরিদপুর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী কল্যাণ সমিতি এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আপনি বাংলাদেশের সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নিয়োজিত থাকাকালে কীভাবে সেটা মাথানত করে মেনে চলে আসলেন? ইউ শুড অলসো রিজাইন (আপনারও পদত্যাগ করা উচিত)।...আপনাকে এর আগের মিটিংয়েও বলেছি, আমতা-আমতা করবেন না। কেন আমতা-আমতা করেন আপনি? কী ধরনের উইকনেস (দুর্বলতা) ? ইউ আর দি লংগেস্ট সার্ভিং অ্যাটর্নি জেনারেল অব দি কান্ট্রি (আপনি দেশের দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা)। এই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা দুই দুইবার আপনাকে নির্বাচিত করেছে।...আপনার বলা উচিত ছিল যে এটা আপনি (প্রধান বিচারপতি) উইথড্র (প্রত্যাহার) করেন। এটা উইথড্রো করতেই হবে। এবং এটা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। কনস্টিটিউশনাল পোস্টে বসে আরেকটা কনস্টিটিউশনাল পোস্টের হেডকে উনি স্যাক (পদচ্যুত) করবেন এত বড় কথা উনি (প্রধান বিচারপতি) বসে থেকে করতে পারেন না।’

শেখ ফজলে নূর তাপস যখন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের পদত্যাগ দাবি করে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁর পাশে বসে ছিলেন।

এ সময় প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমরা ধৈর্য ধরে আছি বলেই আপনি আসীন আছেন।...জাতির পিতার বিষয়ে যিনি রায়ের মাধ্যমে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান, তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। শপথ ভঙ্গ করেছেন। কারও এই অধিকার সংবিধান দেয় নাই। কারও এই অধিকার নাই।’

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘একটা লোকের (প্রধান বিচারপতি) সম্বন্ধে এত কথা বলে তাঁরে জাতীয় হিরো বানানোর কোনোমতেই সমীচীন নয়।’ তিনি বলেন, ‘এই যে রায়টা উনি (প্রধান বিচারপতি) দিলেন, সেটা হয়তো উনি বুঝতে পারেন নাই যে এর রিঅ্যাকশনটা (প্রতিক্রিয়া) কী হবে। ওনার ধারণা যে পাকিস্তানে একটা রায় দিছে, আমিও একটা রায় দিয়ে বসি লোকজন বাহবা দিবে।’

এ সময় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘উনি যতবার ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করবেন, ততবার আমরা পার্লামেন্টে পাস করব। দেখি উনি কতবার এটা পাস করতে পারেন। আবার হুমকি দেন যে তাঁর ধৈর্যের একটা সীমা আছে। ধৈর্য তো আমরাও ধরছি।...সংযত হন। সংযতভাবে কথা বলেন। এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানকে জনগণের মুখোমুখি করবেন না।’

অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘আমার স্নেহভাজন তাপস যে কথা বলল। আপনারা জানেন না, এ মামলা যখন শুরু হয়—আমার সঙ্গে প্রধান বিচারপতির কী রকম ঝগড়া হয়েছে। বিভিন্ন সময় এটা কাগজেও (সংবাদপত্র) এসেছে। আমি এ কথাও বলেছি, আমি কোর্ট বর্জন করব। আর লাস্ট যে কথা, এটা মিডিয়ায় (গণমাধ্যম) এসেছে ভুলভাবে।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘কিছু মিডিয়া আছে ওত পেতে থাকে। কীভাবে ডিসটোর্ট (বিকৃতি) করবে, ঘটনা অন্য রকমভাবে দেবে। সেই জন্য চুপ করে বসে থাকে এবং মিসকোট করে।’

গত শনিবার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার কথা গণমাধ্যমে ভুলভাবে এসেছে বলে উল্লেখ করেন মাহবুবে আলম। সেদিন যেসব কথা হয়েছিল তা উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘আমি বললাম দেখেন, বাইরে অবস্থা খুব উত্তপ্ত। এখন লম্বা সময় দিয়ে দেন। উত্তপ্তটা কমুক, তারপর গভর্নমেন্ট এটা দেখবে। তখন উনি (প্রধান বিচারপতি) বললেন, উত্তপ্ত তো আমরা করি না। আপনারা তো রায় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেন। আমরা একটা রায় দিয়েছি, আপনারা এত আলাপ করেন; পাকিস্তানের রায়ের পর তো প্রাইম মিনিস্টারও চলে গেল। সেখানে তো কিছু হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘আমি তৎক্ষণাৎ বলতে পারতাম যে পাকিস্তানের কথা কেন টানেন? কিন্তু প্রশ্ন হলো, উনি তখন আবার একটা উত্তর দিতেন তখন হয়তো গভর্নমেন্টই আমাকে কথা শোনাতো যে তুমি ঝগড়ার সুরটা করলে কেন?...এই যে কোটিং করা যে আমি (প্রধান বিচারপতি) প্রাইম মিনিস্টারকে সরিয়ে দিতে পারব—এটা কিন্তু ঠিক না।’

বৃহত্তর ফরিদপুর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী কল্যাণ সমিতির সভাপতি এস এম মুনীরের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল মতিন খসরু, আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন প্রমুখ।