• বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৭, ৯ ভাদ্র ১৪২৪
  • ||
  • আর্কাইভ

সরকারি জমি পেলো যেসব ওষুধ কোম্পানি

প্রকাশ:  ১২ আগস্ট ২০১৭, ২৩:১৯ | আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৭, ২৩:২৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

দেশের ২৫টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট বা এপিআই শিল্পপার্কে জমি পাচ্ছে। ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনে এ শিল্পপার্ক প্রতিষ্ঠা করছে শিল্প মন্ত্রণালয়। সেখানে জমি নিতে ওষুধশিল্পের উদ্যোক্তাদের আগামী সপ্তাহেই চিঠি দেবে প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন বা বিসিক।

জমি নিয়ে উদ্যোক্তারা শিগগিরই সেখানে কারখানা তৈরির কাজ শুরু করতে পারবেন। কারণ, বিসিক সেখানে জমি প্রস্তুত করেছে। অন্যান্য অবকাঠামো তৈরির কাজও প্রায় শেষের দিকে। এ শিল্পপার্কে ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশের আমদানিনির্ভরতা কমবে। এখন ৮০-৮৫ শতাংশ কাঁচামালই আমদানি করতে হয়।

মুন্সিগঞ্জের বাউশিয়ায় প্রায় ২০০ একর জমিতে এপিআই শিল্পপার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ পার্কে ৪২টি প্লট থাকছে কারখানা নির্মাণের জন্য। এর মধ্যে ‘এ’ শ্রেণির ৩০টি (প্রতিটি ৩ দশমিক ২৭ একর), ‘বি’ শ্রেণির ৫টি (প্রতিটি ২ দশমিক ৩৫ একর) এবং ‘এস’ শ্রেণির বিভিন্ন আকারের ৭টি প্লট থাকবে।

প্লটগুলো কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে, তা ঠিক করে দিয়েছে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি। সংগঠনটির দেওয়া তালিকা শিল্প মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি যাচাই-বাছাই করেছে। পরে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর উপস্থিতিতে একটি বৈঠকে প্লট কারা পাবে তা চূড়ান্ত হয়। জানা গেছে, ওষুধশিল্প পার্কে বেক্সিমকো, ইনসেপ্‌টা, স্কয়ার, গ্লোব, অ্যারিস্টোফার্মা, অপসোনিনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান একাধিক প্লট পাবে।

এপিআই শিল্পপার্ক প্রকল্পের পরিচালক মো. আবদুল বাছেত বলেন, ওষুধ শিল্প সমিতির তালিকার একটি প্রতিষ্ঠানও বাদ পড়েনি। আমরা জমি বরাদ্দের চিঠি তৈরি করছি। আগামী সপ্তাহেই কোম্পানিগুলোকে চিঠি দেওয়া হবে।

এপিআই শিল্পপার্ক প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয় ২০০৮ সালে। প্রথমে এর ব্যয় ধরা হয় ২১৩ কোটি টাকা। এরপর দুই দফা সংশোধন করে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৩৩১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, ব্যয় আরও ৯ শতাংশ বাড়বে। কিছু কাজ বাকি রয়ে গেছে। ফলে জমির মূল্যও কিছুটা বেশি দিতে হবে কোম্পানিগুলোকে। একরপ্রতি জমির মূল্য ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জমির মূল্য পরিশোধে মালিকেরা ১০ বছর সময় পাবেন। অন্যদিকে ওই শিল্পপার্কে প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) নির্মাণ করবেন ওষুধশিল্পের উদ্যোক্তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব এস এম শফিউজ্জামান বলেন, জমি বরাদ্দ পেলেই আমরা কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু করব। অন্যদিকে সিইটিপি নির্মাণে একটি ইউরোপীয় ও চারটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হয়েছে।’ ওষুধ খাতের এই উদ্যোক্তা আরও বলেন, কাঁচামাল উৎপাদন শুরু হলে ওষুধ তৈরির খরচ কমবে। এতে রপ্তানিতে ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জন করা যাবে। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে ওষুধ রপ্তানি অনেক বাড়বে। কারণ, বিভিন্ন দেশে আমাদের ওষুধ কোম্পানিগুলো নিবন্ধন পাচ্ছে। আমেরিকায় স্কয়ার ও বেক্সিমকো রপ্তানি শুরুও করেছে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রায় ৮ কোটি ৯১ লাখ ডলার আয় করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৯ শতাংশ বেশি।