• বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৭, ৯ ভাদ্র ১৪২৪
  • ||
  • আর্কাইভ

‘এখন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিরা ল’ অফিসার নিচ্ছে’

প্রকাশ:  ০৯ আগস্ট ২০১৭, ১১:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

ড. তুরিন আফরোজ। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের চেয়ারম্যান। শুধু আইনাঙ্গন নয়। পেশাগত জীবনে সাফল্যের কারণে ইতোমধ্যে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন দেশব্যাপী। ব্যারিস্টার তুরিন যুক্তরাজ্যের লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স), অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন সিডনি থেকে এলএলএম (ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ল’) এবং মনাশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ-ডি ডিগ্রি লাভ করেন।

সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও রাজনীতিতে নারী অংশগ্রহণ, আদালতে নারীদের কর্মপরিবেশ, আইনের শিক্ষার্থী ও জুনিয়র আইনজীবীদের করনীয় নিয়ে তাঁর সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হলো:

আপনি একজন আইনের শিক্ষক ও আইনের শিক্ষার্থী কিংবা যারা শিক্ষানবিশ হিসেবে আদালতে আসছেন তাদের প্রতি আপনার পরামর্শ জানতে চাই।

ড. তুরিন আফরোজ: আমার প্রথম পরামর্শ হচ্ছে দেয়ার ইস নো শর্টকার্ট। পড়াশুনা করতে হবে, কেউ যদি মনে করে যে অল্প সময় পড়ে একদম শেষে গিয়ে তাক লাগিয়ে দেব কিংবা স্টুডেন্ট লাইফের ল’ এটা পরীক্ষার আগের রাতে পড়েই ভালো করতে পারব সেরকম দুই একজন শিক্ষার্থী হয়তো থাকতে পারে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বললে এখানে বেশি বেশি পড়ার বিকল্প নেই। আর শর্টকার্ট পড়ে হয়ত এক্সিডেন্টলি কিছু পরীক্ষা ভালো হবে কিন্তু পেশাগত জীবনে তথা ইন দ্যা লং রানে পস্তাতে হবে। কারণ পেশাগত জীবনে ভালো পারফর্ম্যান্স দেখাতে হবে। আর ভালো পারফর্ম্যান্স কিন্তু এক্সিডেন্টলি হয়না। তার জন্য যথেষ্ট প্রিপারেশন নিতে হয়। তার জন্য যথেষ্ট মানসিক শক্তি সঞ্চার করতে হয়। প্রফেশনাল লাইফটা একাডেমীক লাইফ থেকে অনেক আলাদা।

তবে আরেকটা ব্যাপার আমি বলব যে শুধু প্র্যাকটিসেই যেতে হবে এমন না এমন না। বর্তমানে কিন্তু ল’ গ্র্যাজুয়েট হয়ে অন্য পেশায় যাওয়া যায়। যেমন জুডিশিয়ারিতে যাওয়া যাচ্ছে। আমি বিশেষ করে মেয়েদের কথা বলব, এখন কিন্তু অনেক মেয়ে-ই জুডিশিয়ারি দিয়ে সহকারী জজ হচ্ছে। এছাড়া অনেক এনজিও, ব্যাংক, কিংবা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিরা ল’ অফিসার নিচ্ছে। ফলে শুধু প্র্যাকটিসে গিয়ে ভালো করতে না পারার হতাশা নিয়ে ল’ এর ট্র্যাক থেকেই বের হয়ে যাওয়ার দরকার নেই। ভিন্ন কোন আসপেক্টস এ কাজ করা যেতে পারে।

আর শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে আমি বলব, আদালতে কিন্তু দুই ধরণের বিষয়ই ক্ষেত্রেবিশেষে ঘটতে পারে। কিন্তু আমি কোনটা শিখবো আর কোনটা বর্জন করবো সেটা আমাকেই ঠিক করতে হবে। একজন হয়তো অসৎ উপায়ে কাজ করে সাময়িকভাবে বেনিফিটেড হয়েছে কিন্তু তাই দেখে আমি অসৎ কেন হব? এই বিষয়গুলো শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের মাথায় রাখতে হবে।