• বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৭, ৯ ভাদ্র ১৪২৪
  • ||
  • আর্কাইভ

ঘাতক প্রেমিকের জবানিতে প্রেমিকা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা

প্রকাশ:  ১৩ আগস্ট ২০১৭, ০৪:৩৯
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

ভালোবাসার মানুষটি যমদূত হয়ে দেখা দিল রাবিনার জীবনে। ঘাতক প্রেমিক দেলওয়ার তাঁর দেহভোগ করতে চেয়েছিল। চেয়েছিল তার আজ্ঞাবহ করে রাখতে। কিন্তু এতে বাদ সাধে রাবিনা। আর এটাই রাবিনার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেল প্রেমিক দেলওয়ার একজন প্রেম প্রতারক। নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রী রাবিনা স্কুলে আসা যাওয়ার পথে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করত। একদিন দু’দিন এভাবে রাবিনাকে বশে নিয়ে নেয়। দু’জনের মধ্যে গড়ে উঠে প্রেমের সম্পর্ক। 

মাঝে মাঝে রাবিনার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথাও বলত। ঘটনার দিনেও মোবাইল ফোনে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে রাবিনাকে ডেকে নিয়ে ধলাই নদীর পাড়ে। নির্জন স্থানে বসে দু’জনে গল্পও করে। এক পর্যায়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। সে সময় রাবিনা বাধা দেয়। দু’জনের মধ্যে হয় ধস্তাধস্তি। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ দেলওয়ার স্রোতস্বিনী নদী ধলাই’তে রাবিনাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। অতল গহ্বরে তলিয়ে যায় রাবিনা। এরপর দেলওয়ার পালিয়ে যায়। এরই মাঝে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে রাবিনার পিতা থানায় জিডি করেন। ওই জিডির সূত্র ধরে পুলিশ মোবাইল  ফোন কললিস্ট দেলওয়ারকে গ্রেপ্তার করে। 

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে এমনটাই জানিয়েছে ঘাতক প্রেমিক দেলাওয়ার। দেলওয়ার রাবিনার সম্পর্কে দুলাভাই। পার্শ্ববর্তী বাড়িতে দেলওয়ার বিয়ে করে। এ সুবাদে তাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করত। সে কারণে তাদের মধ্যে জানাশোনাও ছিল। দেলওয়ার স্ত্রীসহ দুই সন্তানের জনক। রাবিনার বাবা মো. কাইয়াম উদ্দিন পুলিশের কাছে দেয়া লিখিত এজহারে বলেন,  দেলওয়ার আমার বাড়িতে আসা-যাওয়া করত। এক পর্যায়ে আমার অজান্তে মেয়ে রাবিনার সাথে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তুলে। এ সম্পর্ক টের পেয়ে আমি রাবিনাকে কথা বলতে নিষেধ করি। তারপরও আমি যখন বাড়িতে না থাকি তখন ফোনে তারা কথা বলত। 

ঘটনার দিন রাবিনাকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ি না পেয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করি। লোক লজ্জার ভয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতেও খুঁজি। মেয়েকে না পেয়ে ২০/২৫ অতিবাহিত হওয়ার পর পুলিশকে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করি।  কমলগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে মুঠোফোনের কললিস্ট নিরীক্ষা করে দীর্ঘ একমাস পর শুক্রবার দুপুরে আদমপুর এলাকা থেকে ঘাতক প্রেমিককে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। 

থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই ছাত্রীকে ভোগ করতে না পেরে নদীতে ফেলে  দেয়ার কথা ঘাতক প্রেমিক স্বীকার করে। শুক্রবার বিকালে পুলিশ ও গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে দেলওয়ার কোথায় ও কিভাবে স্কুলছাত্রী রাবিনাকে ডেকে ধলাই নদীর পাড়ের নির্জন স্থানে নিয়ে গেছে সে স্থানও দেখায়। ইসলামপুর ইউনিয়নের গুলের হাওর গ্রামের মুসলিম মনিপুরী সম্প্রদায়ের দরিদ্র কৃষক কাইয়াম উদ্দীন ও লাভিয়া বেগমের মেয়ে  রাবিনা বেগম (১৬) ভান্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। 

গত ১২ই জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাবিনা নিখোঁজ হয়। তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল আদমপুর ইউনিয়নের তিলকপুর গ্রামের মাটিয়া মসজিদ এলাকার একই সম্প্রদায়ের মাওলানা আলিম উদ্দীনের ছেলে দেলওয়ার হোসেন (৩২)। এই সু-সম্পর্কের কারণে গত ১২ই জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রেমিক দেলওয়ার  ছাত্রী রাবিনাকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে ছাত্রীটি নিখোঁজ ছিল। 

ঘটনাটি নিজেদের মধ্যে রেখে রাবিনার পরিবার প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে মেয়ের সন্ধান পাননি। এরপর স্থানীয় ইউপি ৫নং ওয়ার্ড সদস্য মৃণাল কান্তি সিংহের সহায়তায় গত ২৪শে জুলাই একটি মুঠোফোন নম্বরের উপর সন্দেহ করেই  কমলগঞ্জ থানায় নিখোঁজের উপর একটি সাধারন ডায়েরি করেন। সাধারণ ডায়েরিতে সন্দেহমূলক মুঠোফোন নম্বরের কল লিস্ট বের করে ফোনের মালিক নিখোঁজ ছাত্রীর প্রেমিক দেলওয়ার হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। থানায় এনে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সে নিজেই স্বীকার করেছে ছাত্রী রাবিনাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে ধলাই নদীর পাড়ে নির্জন স্থানে রেখেছিল। 

মামলার তদন্তকারী কমলগঞ্জ থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. আজিজুর রহমান বলেন, দেলওয়ার বলেছে, রাবিনাকে সে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দেয়। ঘটনার দিন মেয়েটির শারীরিক সমস্যা ছিল। ধর্ষণ করেনি’।